মাঠে সরব, চালাচ্ছেন গণসংযোগ
সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীতা চান অন্তত ২৫ যুবলীগ নেতা
বিশেষ প্রতিনিধি:
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন—দলটির সহযোগী সংগঠন যুব লীগের উচ্চ পর্যায়ের ২৫-এর অধিক নেতা। এ-সব নেতা (যুবলীগ) ওই নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে মাঠ পর্যায়ে সরব রয়েছেন। যুবলীগ সূত্র ও মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এ তথ্য জানিয়েছেন। সূত্র জানায়, মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন, এমন ২৫ নেতার মধ্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদক, প্রেসিডিয়াম সদস্য, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক সহ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় অন্য পদধারী নেতাও রয়েছেন। এছাড়া, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুব লীগের দুই জন নেতা রয়েছেন।
সব ঠিক থাকলে ২০২৪ সালে জানুয়ারি ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনারও (ইসি) জানিয়েছেন, আগামী বছরের জানুয়ারি প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে ওই নির্বাচন। এদিকে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে, মনোনয়ন প্রত্যাশীরা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে আসতে সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়িয়ে দিয়েছেন। অপরদিকে, ওই নির্বাচন অনুষ্ঠেয়ে নির্বাচন কমিশনে নানা রকম প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ এ প্রস্তুতি (নির্বাচন) অনেক আগেই শুরু করেছে। দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তাদের নিজ আসনে আগের চেয়ে অনেক বেশি গণসংযোগ বাড়িয়েছেন। আওয়ামী লীগ সূত্রে এ-সব তথ্য জানা গেছে। তবে যুব লীগ সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন পেতে তাদের(যুবলীগ) নেতারাও নিজ নিজ এলাকায় জনসংযোগে নেমেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে তারা (মনোনয়ন প্রত্যাশী যুবলীগ নেতা) সভা-সমাবেশ, ব্যানার-ফেস্টুন ও লিফলেট সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করছেন।
যে-সব আসনে মনোনয়ন চান যুবলীগ নেতারা:
ঢাকা-১০ আসনে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, ঢাকা-১৪ আসনে সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, প্রেসিডিয়াম সদস্য: টাঙ্গাইল-৫ আসনে অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ, ঢাকা-১৯ আসনে আবু আহমেদ নাসিম পাভেল, শরীয়তপুর-২ আসনে ডা: খালেদ শওকত আলী, ফরিদপুর-৪ আসনে মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, লক্ষীপুর-১ আসনে হাবিবুর রহমান পবন, ঝিনাইদহ-৩ আসনে নবী নেওয়াজ, জামালপুর-৪ আসনে এনামুল হক খান, ঢাকা-৮ আসনে মোয়াজ্জেম হোসেন, বরগুনা-২ আসনে সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক: বরিশলা-৬ আসনে বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে সুব্রত পাল, চট্রগ্রাম-১২ আসনে মুহাম্মদ বদিউল আলম, সাংগনিক সম্পাদক: নরসিংদী-৪ আসনে কাজী মো: মাজহারুল ইসলাম, চট্রগ্রাম-৪ আসনে আবু মুনির মো: শহিদুল হক রাসেল, পটুয়াখালী-৪ আসনে অ্যাডভোকেট ড. শামীম আল সাইফুল সোহাগ, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিল্টন,আসনে ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন পাভেল(জলঢাকা নিলফামারী), উপ-স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. মাহফুজার রহমান উজ্জল(ভুরুঙ্গামাড়ি নিলফামারী), বগুড়া-২ আসনে নির্হাবী সদস্য মোবাশ্বার হোসেন স্বরাজ, ভোলা-২ আসনে ড. আশিকুর রহমান শান্ত। এছাড়া, ঢাকা-১৬ আসনে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন এবং ঢাকা-৬ ও পটুয়াখালি-২ আসনের যেকোন একটি আসনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচএম রেজাউল করিম রেজা আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন।
ঢাকা-১০ আসন (কলাবাগান, হাজারীবাগ, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট)
ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এ-আসনে, আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর তালিকায় যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ-এর নাম আলোচনায় রয়েছে। যুব লীগ সূত্র বলছে, মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে ফজলে শামস পরশের সব যোগ্যতা রয়েছে। তবে, যুবলীগ চেয়ারম্যান (পরশ) শেখ পরিবারের সদস্য হওয়ায় যেকোন সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে আসবে।
জানা গেছে, শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশের জন্ম ঢাকায়, ১৯৭০ সালের ২ জুলাই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের মধ্যে পরশের বাবা শেখ ফজলুল হক মনি ও মাতা আরজু মনি সেরনিয়াবতকেই সর্বপ্রথম হত্যা করা হয়। তখন পরশের বয়স মাত্র ৫ বছর। শেখ ফজলে শামস পরশ ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ইংরেজি সাহিত্যে দ্বিতীয়বার এমএ ডিগ্রি লাভ করেন যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে। দেশে ফিরে শেখ ফজলে শামস পরশ দীর্ঘদিন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সর্বশেষ সপ্তম জাতীয় কংগ্রেসে বাবার হাতে গড়া সংগঠন আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন শেখ ফজলে শামস পরশ।
ঢাকা-১৪ আসন (সাভারের কাউন্দিয়া ইউনিয়ন ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন):
যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এই আসন থেকে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি সরকারের নানামুখী উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা তুলে ধরে আসনটিতে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এরমধ্যেই তিনি দলীয় নেতা-কর্মী সহ এ আসনের বিভিন্ন শ্রেনী পেশা ও সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করেছেন। মাইনুল হোসেন নিখিল জানায়, ঢাকা-১৪ আসনে সর্বপরি সামাজিক নিরাপত্তার বলয় তৈরী করাই তার মুল লক্ষ্য।
মাইনুল হোসেন ১৯৯১ সালে যুবলীগ রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। তৎকালীন রাজধানীর ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ১৯৯৩ সালে ঢাকা মহানগর যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০০১ সালে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক ও ২০১২ সালে আওয়ামী যুবলীগ ষষ্ঠ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী যুবলীগ সভাপতি নির্বাচিত হন। সর্বশেষ সম্মেলনে যুবলীগ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান নিখিল।
মাইনুল হোসেন বলেন, ‘ঢাকা-১৪ আসন গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্বাচনী এলাকা। এই এলাকা দিয়ে উত্তরবঙ্গ থেকে অসংখ্য মানুষ ঢাকার শহরে আসেন। এবং বের হয়ে যান। সারাদেশের মানুষের প্রত্যাশা একটাই ঢাকা আসার পর তারা যেন সুন্দর ভাবে গন্তব্যে পৌছাতে পারেন এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করবো। যুব ও ছাত্র সমাজ যেনো বিপদগামী না হয়। এখানে স্কুল, কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে শিক্ষা গ্রহণ এবং গন্তব্য স্থলে পৌছোতে পারে সেগুলো নিশ্চিত করবো। মাজার কেন্দ্রিক যেগুলো অনিয়ম আছে, সেটি দুর করবো।
টাঙ্গাইল-৫ আসন (সদর):
এ আসন থেকে যুবলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তিনি জানান, গত সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সাথে মহাজোটের কারণে সারাদেশে তিনটা সিট ছেড়ে দেওয়া হয়। তারমধ্যে টাঙ্গাইল-৫ আসনও ছিল। শেষ মুহুর্তে তাকে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে হয়। তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যশা করছি। এবং সেই লক্ষ্য দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষদের সাথে নিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের নানা উন্নয়ন ও অর্জন তুলে ধরে সবসময়ই কাজ করে যাচ্ছি।
লক্ষীপুর-১ আসন (রামগঞ্জ):
যুবলীগ কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান পবন এই আসন থেকে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তিনি মনে করেন, লক্ষীপুর এই আসনে দীর্ঘদিন যাবত শরিকদের মনোনয়ন দেওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাবিবুর রহমান বলেন, বর্তমান এমপি তরিকত ফেডারেশন থেকে নমিনেশন নিয়ে কৌশলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে যান। তিনি বা তার পরিবার কেউই অতীতে আওয়ামী লীগ করেননি। তার (এমপি) পরিবার স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি হিসেবে এলাকায় পরিচিত। হাবিবুর রহমান বলেন, দলের পরীক্ষিত যেকোন ত্যাগী নেতাকে মনোনয় দেওয়া হয়, তাহলে এ আসনে জয়লাভ করা সম্ভব।
ঝিনাইদহ-৩ (কেটচাদপুর- মহেশপুর):
আসনটির সাবেক এমপি যুবলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য মো: নবী নেওয়াজ আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন চান। সাবেক ছাত্র নেতা হিসেবে রাজপথে সংগ্রাম-আন্দোলনে ভুমিকা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। নবী নেওয়াজ বলেন, দশম জাতীয় নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পাচ বছর কাজ করেছি। এলাকার উন্নয়নে কাজের প্রতি আগ্রহ বেশি ছিল। এলাকার কিভাবে কাজ নিতে হবে। তিনি বলেন, এমপি থাকাকালীন সময়ে কাজের জন্য দৌড়-ঝাপ পারতাম। এলাকার মানুষকে উন্নয়ন দেখানোর ইচ্ছে ছিল। নবী নেওয়াজ বলেন, কাজের জন্য গেলে কোথাও কেউ ফেরাননি। কাজ করতে পেরেছি। এখন এলাকার মানুষ আমাকে নিয়ে আশা করছে। আরেকবার ভোট দিতে।
ঢাকা-৮ আসন (ঢাকা দক্ষিণ সিটি):
এ আসন থেকে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন যুবলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন। জানা গেছে, ওই আসনে মোয়াজ্জেম হোসেন দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে রাজনৈতিক সোহার্দ্যও গড়েছেন। মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, পারিবারিক ভাবেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছি। ১৯৮৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র লীগের রাজনীতি শুরু করি। আওয়ামী লীগের দুর্দিনে, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বৈরাচার সরকার এরশাদ হটানোর নেতৃত্ব দিয়েছি। তিনি বলেন, দলের দুর্দিনে, দু:সময়ে বিএনপি-জামায়াতের মামলা-হামলায় শিকার হয়েছি। শরীরে বুলেটের যন্ত্রণায় এখনো কাতরাতে হই। রাজনৈতিক ভাবে ঢাকা-৮ আসনে সমসময়ই বিচরণ। দলীয় নেত্রী মনোনয়ন দেন। তাহলে, ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচন করতে চাই।
বরিশলা-৬ আসন(বাকেরগঞ্জ):
দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ নেতাদের মনোনয়ন বাইরে থাকা এ আসনে দলটির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন যুবলীগ কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশা। জানা গেছে, ১৯৮০ সালে বিশ্বাস মুতিউর রহমান বাদশার বাকেরগঞ্জ জে,এস, ইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয় শাখা ছাত্র লীগ দিয়ে রাজনীতির পথচলা। সামরিক স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, বিএনপি-জামায়াত বিরোধী আন্দোলন,১/১১ প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে তার(মুতিউর রহমান) বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া, তিনি দলের (আওয়ামী লীগ) দুর্দিনে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে নানা সময়ে মামলা-হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক সূত্র জানায়, স্বচ্ছ ও ত্যাগী নেতা মুতিউর রহমান বাদশা যুবলীগের পাশাপাশি মুল দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন।
মুতিউর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ১২৪ বরিশলা-৬ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় এমপি নেই। আমার বাকেরগঞ্জবাসী দেশের অভূতপূর্ণ উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে আছি। যোগ্য নেতৃত্বে বাকেরগঞ্জের জৌলুস বাড়িয়ে তোলা সময়ের দাবি। তিনি বলেন, অবহেলিত এবং পিছিয়ে থাকা বাকেরগঞ্জের কাঙ্খিত ও সমান্তরাল উন্নয়নের লক্ষে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে কর্মী ও জনবান্ধব একজন আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী দরকার। মাননীয় নেত্রী সুযোগ দিলে এ আসন থেকে কাজ করে চাই।
নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব):
এক সময়ের তুখোড় সাবেক ছাত্র নেতা ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মো: মাজহারুল ইসলাম এই আসন থেকে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। স্থানীয় যুবলীগ সুত্র জানায়, নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে মাজহারুল ইসলাম সাধারণ মানুষের মাঝে নিয়মিত গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। এসময় শেখ হাসিনা সরকারের নানামুখী উন্নয়ন চিত্র ও অর্জন সম্বলিত ব্যানার-ফেসটুন, পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ করে সাফল্য তুলে ধরছেন।
মাজহারুল ইসলাম জানান, দশম শ্রেণি অধ্যায়নে ছাত্র লীগের রাজনীতির সাথে জড়িয়ে যান। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ও তৎকালিন(২০০৬) বিএনপি, জামায়াত সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে হামলা-মামলার শিকার হন। স্থানীয় সুত্র আরও জানায়, মনোহরদী ও বেলাব উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান দিয়েছেন মাজহারুল ইসলাম। করোনাকালীন সময়ে তিনি বিভিন্ন পর্যায়ে খাদ্য সামগ্রীর সহযোগিতা করেন। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসায় সহায়তায় পাশে দাড়ান। দরিদ্র মানুষের মাঝে শীত বস্ত্র ও কম্বল বিতরণ করেন। এবং অসহায় নারীদের সেলাই মেশিন প্রদান করেন তিনি।
বগুড়া-২ আসন (শিবগঞ্জ):
এ আসন থেকে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন চান সাবেক মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর হোসেন-এর ছেলে যুবলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবাশ্বার হোসেন স্বরাজ। স্বরাজ -এর দাবি, তাকে মনোনয়ন দেয়া হলে পিতার জনপ্রিয়তা ও নিজ দলের প্রতি আনুগত্য এবং কর্মের প্রতি আস্থা নিয়ে বিজয়ী হবেন।
মোবাশ্বার হোসেন স্বরাজের বাবা মোজাফ্ফর হোসেন ১৯৭০ ও ১৯৭৩ সালে নৌকা প্রতিক নিয়ে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীকালে এই আসন থেকে আর কোনো নির্বাচনে নৌকা প্রতিক নিয়ে কেউ নির্বাচিত হতে পারেননি। স্বরাজ জানায়, তার বাবা অত্যন্ত সৎ ও নির্লোভ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি শিবগঞ্জ আসনে বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন এলাকার জনগণ সুযোগ পেলে বাবার ঋণ জনগণ ভোটের মাধ্যমে পরিশোধ করবেন। স্থানীয় নেতা-কর্মীরাও মনে করেন, বিএনপি অধ্যুষিত এই এলাকায় তার বাবা সার্বজনীন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন। একমাত্র মোবাশ্বার হোসেন স্বরাজকে দিয়ে আসনটিতে নৌকা পুনদ্ধার সম্ভব।
ভোলা-২ আসন (দৌলত খান ও বোরহানউদ্দিন)
এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয় পেতে রাজনীতির মাঠে শ্রম ঘামাচ্ছেন যুবলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ড. আশিকুর রহমান শান্ত। টানা চার মাস রাজনৈতিক সফরে তিনি দৌলত খান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে জণসংযোগ বাড়িয়েছেন। স্থানীয় যুবলীগ সূত্র এ তথ্য জানিয়ে বলছে, ভোলা-২ আসনে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রীতম সংগঠন নেতাদের সাথে আশিকুর রহমান শান্ত মতবিনিময় অব্যাহত রেখেছেন ।